
ডেস্ক নিউজ : ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ—এই পাঁচ বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এসব বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী এবং এডিস মশার লার্ভার উৎপত্তিস্থল সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে দেশের সার্বিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এই অভিযানের অংশ হিসেবে উদ্বোধনের পর থেকে প্রতি শনিবার সারা দেশে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হবে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা আশপাশে পানি জমতে পারে এমন স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রেখে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি, সংসদ সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের অনুরোধ করা হয়েছে।
হাসপাতালে বিশেষ প্রস্তুতি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম:
ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার উপজেলা হাসপাতালগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অন্তত পাঁচটি করে শয্যা আলাদাভাবে প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন সরকারের হাতে মজুত রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বাধ্যতামূলকভাবে মশারির মধ্যে রাখার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশা থেকে নতুন করে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে।
আগামী তিন মাস বাড়তি ঝুঁকির আশঙ্কা:
সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসকে ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। এখনই যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামী তিন মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৩৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৯৩৮ জনে।
