বিনোদন ডেস্ক : নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। যাকে বলা হতো বাংলা চলচ্চিত্র জগতের রাজপুত্র। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭ টি সিনেমা উপহার দেওয়া প্রয়াত এই চিত্রনায়কের জন্মদিন আজ। বেঁচে থাকলে আজ ৫৫ বছরে পা রাখতেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই স্বপ্নের নায়ক।
১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন, যিনি চলচ্চিত্রে এসে পরিচিতি পান সালমান শাহ নামে। অল্প বয়সেই চলচ্চিত্রে পা রেখে তিনি হয়ে উঠেছিলেন নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক।
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম সিনেমাতেই তার অভিনয় ও পর্দার উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর একের পর এক সিনেমায় তার অভিনয় তাকে নিয়ে যায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। শুধু অভিনয় নয়, তার পোশাক, চুলের স্টাইল, কথা বলার ধরন ও ব্যক্তিত্বও তরুণ প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠেছিল অনুকরণীয়। ফলে তিনি শুধু একজন চলচ্চিত্র তারকা ছিলেন না, হয়ে উঠেছিলেন একটি প্রজন্মের আবেগ ও স্বপ্নের অংশ।
যদিও সালমান শাহ তার অভিনয় জীবন শুরু করেন টেলিভিশন নাটক দিয়ে। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। এরপর কাজ করেছেন—দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফেরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫) এবং সবশেষ স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে।
রুপালি পর্দায় সালমান শাহর সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাদেরকে অন্যতম সেরা জুটি বলা হয়। ক্যারিয়ারে সালমানের করা ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর।
সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্রে এসেছে অনেক পরিবর্তন, নতুন প্রজন্মের বহু নায়ক দর্শকের সামনে এসেছেন। কিন্তু সালমান শাহর জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং তার মৃত্যুর পরও তাকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহ ও ভালোবাসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে।
আজ তরুণ প্রজন্মের অনেকেই সালমান শাহকে দেখেছেন তার মৃত্যুর বহু বছর পর। তবুও তার অভিনীত সিনেমা, গান ও বিভিন্ন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ফিরে আসে। জন্মদিন কিংবা মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে ঘিরে ভক্তদের স্মৃতিচারণে ভরে ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। চলচ্চিত্রে পরবর্তী সময়ে আসা অনেক নায়কও তাকে নিজেদের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সালমান শাহর জীবন ছিল ছোট, কিন্তু তার রেখে যাওয়া প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। বেঁচে থাকলে আজ হয়তো ৫৫ বছরের একজন অভিজ্ঞ অভিনেতা হিসেবে আরও বহু চরিত্রে দর্শকদের মুগ্ধ করতেন। কিন্তু সেই সম্ভাবনার গল্প আজ কেবল কল্পনাতেই। বাস্তবে তিনি থেমে গেছেন ২৫-এ। আর দর্শকের হৃদয়ে রয়ে গেছেন সেই চিরতরুণ নায়ক হয়ে।
সময় পেরিয়েছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু সালমান শাহর প্রতি ভালোবাসা আজও অটুট। এ কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তার নাম উচ্চারিত হলে আজও ফিরে আসে এক আবেগময় সময়ের স্মৃতি।
সবার প্রিয় এ ‘স্বপ্নের নায়ক’ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে, মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যের চাদরে মোড়ানো।
ক্ষণজন্মা তুমুল জনপ্রিয় এই নায়কের ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘জীবন সংসার’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।
<p style="text-align: center; box-sizing: inherit; -webkit-font-smoothing: antialiased; margin: 0px 0px 23.1px; padding: 0px; border: 0px; vertical-align: baseline; font-size: 15px; font-family: SolaimanLipi, Arial, sans-serif; word-break: break-word; overflow-wrap: break-word; color: rgb(192, 192, 192); background-color: rgb(15, 15, 17);">সম্পাদকীয়ঃ ৫১৬/2 ইসিবি চত্বর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট। ঢাকা ১২০৬</p><p style="text-align: center; box-sizing: inherit; -webkit-font-smoothing: antialiased; margin: 0px 0px 23.1px; padding: 0px; border: 0px; vertical-align: baseline; font-size: 15px; font-family: SolaimanLipi, Arial, sans-serif; word-break: break-word; overflow-wrap: break-word; color: rgb(192, 192, 192); background-color: rgb(15, 15, 17);">ফোন নাম্বারঃ 01711475448</p><p style="text-align: center; box-sizing: inherit; -webkit-font-smoothing: antialiased; margin: 0px; padding: 0px; border: 0px; vertical-align: baseline; font-size: 15px; font-family: SolaimanLipi, Arial, sans-serif; word-break: break-word; overflow-wrap: break-word; color: rgb(192, 192, 192); background-color: rgb(15, 15, 17);">জিমেইলঃ Dainikbanglasomoy@gmail.com</p>
Copyright © 2025 All rights reserved