আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর এখনও থামেনি মৃত্যুর মিছিল। দুর্যোগকবলিত এলাকার নদীতে ভেসে যাওয়া মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে অনেক দূরের জেলাগুলোতেও। এতে একদিকে যেমন মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে মর্গগুলোতে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। মরদেহ সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবারের প্রবল বন্যায় রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার বহু মানুষ মারা যান। কিন্তু পানির তীব্র স্রোতে তাদের অনেকের মরদেহ ভেসে চলে যায় ভাটির দিকে। পরে চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপারাসি ও অন্যান্য জেলায় মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।
এর মধ্যে একটি মরদেহ রাসুয়া থেকে প্রায় ২৫০ মাইল দূরের লুম্বিনি প্রদেশেও পাওয়া গেছে। নেপালের সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারেও মূল দুর্যোগকেন্দ্র থেকে ১০০ মাইলের বেশি দূরে তিনটি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে।
মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় কয়েকটি জেলার হাসপাতাল ও মর্গে দেখা দিয়েছে তীব্র জায়গা সংকট। নুয়াকোট, ধাদিং ও নাওয়ালপারাসির মর্গগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় কিছু মরদেহ পার্শ্ববর্তী জেলার মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
চিতওয়ানেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখা সম্ভব। কিন্তু মরদেহের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার সক্ষমতা নিয়ে একটি অস্থায়ী মর্গ তৈরি করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চিতওয়ান এলাকায় ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীর থেকে ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। এরপরও সেখানে নতুন করে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে।
প্রিয়জন নিখোঁজ থাকার খবর পেয়ে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখন চিতওয়ান ও আশপাশের এলাকায় ছুটে আসছেন। অনেকে হাসপাতাল ও মর্গে ঘুরে স্বজনদের খোঁজ করছেন। মরদেহ শনাক্ত করা এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে নেপালজুড়ে নিখোঁজ ও জীবিতদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অন্তত ৫ হাজার সদস্য কাজ করছেন। হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উপায়ে দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তবে দুর্যোগের পর নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় শুক্রবার উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভূমিধস ও ধ্বংসাবশেষে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে দুটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলোর পানি উপচে পড়লে আবারও পাহাড়ি ঢল নেমে নতুন বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া রাসুয়ার উঁচু এলাকায় অবস্থিত ত্রিশূলী বাজারে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৫৪৭ ও ৫৭৯- দুটি আলাদা হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। দুর্যোগের পর উদ্ধার ও শনাক্তকাজ চলতে থাকায় মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে।
<p style="text-align: center; box-sizing: inherit; -webkit-font-smoothing: antialiased; margin: 0px 0px 23.1px; padding: 0px; border: 0px; vertical-align: baseline; font-size: 15px; font-family: SolaimanLipi, Arial, sans-serif; word-break: break-word; overflow-wrap: break-word; color: rgb(192, 192, 192); background-color: rgb(15, 15, 17);">সম্পাদকীয়ঃ ৫১৬/2 ইসিবি চত্বর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট। ঢাকা ১২০৬</p><p style="text-align: center; box-sizing: inherit; -webkit-font-smoothing: antialiased; margin: 0px 0px 23.1px; padding: 0px; border: 0px; vertical-align: baseline; font-size: 15px; font-family: SolaimanLipi, Arial, sans-serif; word-break: break-word; overflow-wrap: break-word; color: rgb(192, 192, 192); background-color: rgb(15, 15, 17);">ফোন নাম্বারঃ 01711475448</p><p style="text-align: center; box-sizing: inherit; -webkit-font-smoothing: antialiased; margin: 0px; padding: 0px; border: 0px; vertical-align: baseline; font-size: 15px; font-family: SolaimanLipi, Arial, sans-serif; word-break: break-word; overflow-wrap: break-word; color: rgb(192, 192, 192); background-color: rgb(15, 15, 17);">জিমেইলঃ Dainikbanglasomoy@gmail.com</p>
Copyright © 2025 All rights reserved