
নিজস্ব প্রতিবেদক : গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে যেন অভিযোগের পাহাড়। টেন্ডার-বাণিজ্য, বিল-ভাউচার জালিয়াতি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই বিল উত্তোলন, প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই অর্থ পরিশোধ, নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলি-বাণিজ্য, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের মতো একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের ভাষায়, “সরকারি চাকরিতে অল্প সময়ে অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হয়ে ওঠা এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা” তিনি। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পে একটি বিশেষ ঠিকাদারি ও প্রকৌশলী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগটি এসেছে জিগাতলা মাল্টিপারপাস হল প্রকল্পের ভিডিও ওয়াল নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিও ওয়াল সরবরাহ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসার পর ভিডিও ওয়াল সরবরাহ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
এতেই প্রশ্ন উঠেছে—তদন্ত শুরু না হলে কি ভিডিও ওয়ালটিও সরবরাহ করা হতো না?
আর যদি তদন্তের আগে কাজটি বাস্তবে সম্পন্ন না হয়ে থাকে, তাহলে বিল অনুমোদনের সময় সরকারি অর্থ ছাড়ের বৈধ ভিত্তি কী ছিল?
৮ কোটি টাকার জিগাতলা প্রকল্প: ‘কাজ অর্ধেক, বিল পুরো’ ! অভিযোগ অনুযায়ী, জিগাতলা প্রকল্পে প্রায় ৮ কোটি টাকার কাজের বিল নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিলের অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। অথচ বিল অনুমোদন করা হয়। আরও অভিযোগ রয়েছে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর স্বাক্ষর ছাড়াই কিছু বিল উত্তোলন করা হয়েছে। কয়েকটি নথিতে স্বাক্ষর অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও তদন্তের দাবি রাখে।
একজন প্রকৌশলীর অভিযোগ, “কাজের পরিমাণ যদি অর্ধেকও না হয়, তাহলে পুরো বিল কীভাবে হলো—এই প্রশ্নের উত্তর নথিতেই পাওয়া যাবে।” এখন তদন্তকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে—পরিমাপ বই, কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন, বিলের তারিখ, সাইট পরিদর্শন, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের স্বাক্ষর এবং ঠিকাদারকে অর্থ পরিশোধের ব্যাংক রেকর্ড একসঙ্গে যাচাই করা।
ভিডিও ওয়াল কাণ্ড: তদন্তের মুখে ‘কাজ সম্পন্ন’—নতুন বিস্ফোরণ : জিগাতলা মাল্টিপারপাস হলের ভিডিও ওয়াল সরবরাহ না করেই বিল দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্ত শুরু হওয়ার পরই ভিডিও ওয়াল সরবরাহ করা হয়। এটি তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত। কারণ প্রশ্ন উঠবে—সরবরাহের তারিখ কি বিল প্রদানের আগের, নাকি পরের ? বিলের সঙ্গে যদি সরবরাহ চালান, ইনস্টলেশন সার্টিফিকেট বা গ্রহণযোগ্যতা সনদ পরে তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে সেই নথিগুলোর সত্যতাও যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে পূর্বের অনিয়মকে পরবর্তী কাজের মাধ্যমে ‘ঢেকে’ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে এবং এ জন্য অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও রয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাইট: বাজারদর এক, বিল তিন?
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্লাস টাওয়ার প্রকল্পে ব্যবহৃত বিশেষ লাইট নিয়েও উঠেছে বিস্ময়কর অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের দাবি, বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় তিনগুণ দাম দেখিয়ে লাইটের বিল করা হয়েছে। এনার্জি গ্লাস কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। শুধু এ প্রকল্পেই প্রায় ৮ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এক কর্মকর্তার দাবি, “বাজারদর যদি এক টাকা হয়, নথিতে তিন টাকা দেখানো হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত বাজারদর ও পরিশোধিত অর্থ যাচাই করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”
স্বাক্ষর নেই, তবু বিল! ‘জাহাঙ্গীর মডেল’ নিয়ে তোলপাড় : অভিযোগের আরেকটি গুরুতর দিক হলো—দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর স্বাক্ষর ছাড়াই বিল প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের দাবি, উপ-বিভাগ-৪-এর কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ন্ত্রণে রেখে বিল প্রক্রিয়ায় ‘ফাঁকফোকর’ তৈরি করা হয়েছিল। একই ব্যক্তি প্রাক্কলন প্রস্তুত এবং প্রাক্কলন যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। এ ধরনের ব্যবস্থা সত্য হলে তা আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। রায়েরবাজার বধ্যভূমি উপকেন্দ্র এবং জিগাতলা প্রকল্পে স্বাক্ষরবিহীন বিল প্রদানের অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে।
রাজশাহী নেটওয়ার্ক: নিয়োগ থেকে বেতন—সবখানেই প্রভাব ? জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ই/এম বিভাগের উপ-বিভাগ-৩ ও ৪-এ রাজশাহী-কেন্দ্রিক একটি প্রভাববলয় গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ ও পদায়ন করা হয়েছে। এমনকি কাজ না করেও কিছু কর্মীকে অতিরিক্ত বেতন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হিসাব সহকারী বা ‘বড়বাবু’র দায়িত্বেও ঠিকাদারের লোকজনকে কাজে লাগানোর অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা সরকারি অফিসের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাজেও অসন্তোষের অভিযোগ :
প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনের কাজেও জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজ, সময়মতো ডেলিভারি না দেওয়া এবং ভুল মালামাল সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক কর্মকর্তার দাবি, এসব ঘটনায় অসন্তোষ তৈরি হয় এবং পরবর্তী সময়ে তার বদলির ক্ষেত্রেও বিষয়গুলোর প্রভাব ছিল।
২০১২-১৬: ডিউটি ছাড়াই বেতন নেওয়ার অভিযোগ
তার কর্মজীবনের আগের সময় নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন । অভিযোগ রয়েছে, ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএতে সহকারী প্রকৌশলী থাকাকালে তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেও বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। একই সময় থেকে তার সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।
এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হবে ওই সময়ের হাজিরা খাতা, ডিউটি রোস্টার, ছুটির রেকর্ড, ট্যুর বিল, বেতন বিল ও সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা করা।
সম্পদের তালিকা যেন রূপকথা!: জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও ব্যাপক।
অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার সম্পদের তালিকায় রয়েছে মোহাম্মদপুরে আলিশান বাড়ি, মিরপুরে ছয়তলা বাড়ি, পশ্চিম মনিপুরের মোল্লাপাড়ায় বাড়ি, বসুন্ধরা আবাসিকে পাঁচ কাঠার তিনটি প্লট, উত্তরা সেক্টর-১৩ এলাকায় স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট, স্ত্রীর নামে কোটি টাকার এফডিআর, কুয়াকাটা ও কক্সবাজারে ফ্ল্যাট/রিসোর্ট, গ্রামের বাড়িতে বিপুল জমি এবং বিলাসবহুল গাড়ি।এ ছাড়া শাশুড়ির নামে সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান: এবার ব্যাংক হিসাবের পালা ? অভিযোগকারীদের দাবি, জাহাঙ্গীর আলমের সম্পদ তার ঘোষিত আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক। এ কারণে দুদকের অনুসন্ধানের কথা সামনে এসেছে। অনুসন্ধান হলে শুধু জমি-বাড়ির দলিল দেখলেই হবে না। প্রয়োজন হতে পারে— ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, জমির দলিল, ফ্ল্যাটের ক্রয়মূল্য, আয়কর রিটার্ন, বিদেশ ভ্রমণ, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ মানি-ট্রেইল।
অভিযোগ সত্য হলে কোথা থেকে অর্থ এসেছে এবং কোথায় গেছে—এই দুই প্রশ্নের উত্তরই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই আন্দোলনে অর্থ সহায়তার অভিযোগ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মিছিলের কথাও বলা হয়েছে।
সরকারি তদন্ত কমিটি গঠন: নথিতে স্পষ্ট : জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ তদন্তে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা অধিশাখা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে সরবরাহ করা অফিস আদেশে উল্লেখ রয়েছে। স্মারক নম্বর: ২৫.০০.০০০০.০০০.১০২.৩১.০০৬.২৬-১৭ নথিতে ২২ আষাঢ় ১৪৩২ / ০৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ উল্লেখ রয়েছে। অফিস আদেশ অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাংগীর আলমের বিরুদ্ধে ‘স্বাধীন বাংলা’ পত্রিকায় প্রকাশিত অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির সভা ৯ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো।
তদন্ত কমিটির সদস্য : মোহাম্মদ বদিউল আলম নির্বাহী প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন-৫) ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক-১; অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালক, পূর্বাচল পানি সরবরাহ PPP প্রকল্প/পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, রাজউক, ঢাকা। অজান্তা শুক্লা তন্মা নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত ই/এম ডিজাইন বিভাগ-২, ঢাকা। অফিস আদেশে প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অনুলিপি দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তদন্তের আগেই যদি ‘ঘাটতি পূরণ’ হয়, তাহলে তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ ? এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে।
কোনো প্রকল্পে যদি অভিযোগ ওঠে—কাজ না করেই বিল দেওয়া হয়েছে, এরপর তদন্ত শুরু হলে সেই কাজ সম্পন্ন করা হয়, তাহলে তদন্তকারীদের সামনে প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে— বিল দেওয়ার তারিখ কী ? কাজ সম্পন্ন হওয়ার প্রকৃত তারিখ কী ? সরবরাহের চালান কবে তৈরি ?
মালামাল গ্রহণের রেকর্ড কোথায় ?
ইনস্টলেশন/কমিশনিং কবে হয়েছে ? বিল অনুমোদনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ছিল কি না ? অর্থ কার হিসাবে গেছে ? এবং পরবর্তী সময়ে কোনো অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না? এই আটটি প্রশ্নের উত্তরেই হয়তো বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত রহস্য।
‘একজন জাহাঙ্গীর’ নাকি পুরো সিন্ডিকেট ?
অভিযোগগুলোর বিস্তৃতি দেখে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি শুধুই একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, নাকি গণপূর্তের ভেতরে একটি দীর্ঘদিনের সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রম ? কারণ টেন্ডার থেকে প্রাক্কলন, বিল থেকে অর্থ ছাড়, ঠিকাদার থেকে সরবরাহকারী, নিয়োগ থেকে পদায়ন—অভিযোগের প্রায় প্রতিটি স্তরেই একটি সম্ভাব্য সমন্বিত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটির বাস্তবতা প্রমাণ করতে হলে তদন্তে প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা, যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেন আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শেষ কথা: এবার নথিই কথা বলুক : মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনোটি সত্য, কোনোটি অতিরঞ্জিত কিংবা কোনোটি মিথ্যা—তা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
কিন্তু ৮ কোটি টাকার জিগাতলা বিল, ভিডিও ওয়াল সরবরাহের সময়কাল, স্বাক্ষরবিহীন বিলের অভিযোগ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের লাইটের মূল্য, প্রাক্কলন-যাচাইয়ের দ্বৈত ভূমিকা এবং বিপুল সম্পদের অভিযোগ—এসব প্রশ্নকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকা জনগণের টাকা। তাই তদন্ত যদি হয়, সেটি হতে হবে নিরপেক্ষ, নথিনির্ভর এবং প্রভাবমুক্ত। বিলের কাগজ, ব্যাংকের হিসাব, প্রকল্পের পরিমাপ বই, সরবরাহের চালান, সম্পদের দলিল এবং অর্থের গতিপথ—সবকিছুকে একই টেবিলে এনে তদন্ত করা দরকার। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও পূর্ণাঙ্গ অব্যাহতি—দুই ক্ষেত্রেই সত্য প্রকাশ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ প্রশ্নটি শুধু জাহাঙ্গীর আলমের নয়—সরকারি প্রকল্পে ‘কাজ আগে নাকি বিল আগে’, এই প্রশ্নের জবাব এখন গণপূর্ত অধিদপ্তরকেই দিতে হবে।
<p style="text-align: center; box-sizing: inherit; -webkit-font-smoothing: antialiased; margin: 0px 0px 23.1px; padding: 0px; border: 0px; vertical-align: baseline; font-size: 15px; font-family: SolaimanLipi, Arial, sans-serif; word-break: break-word; overflow-wrap: break-word; color: rgb(192, 192, 192); background-color: rgb(15, 15, 17);">সম্পাদকীয়ঃ ৫১৬/2 ইসিবি চত্বর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট। ঢাকা ১২০৬</p><p style="text-align: center; box-sizing: inherit; -webkit-font-smoothing: antialiased; margin: 0px 0px 23.1px; padding: 0px; border: 0px; vertical-align: baseline; font-size: 15px; font-family: SolaimanLipi, Arial, sans-serif; word-break: break-word; overflow-wrap: break-word; color: rgb(192, 192, 192); background-color: rgb(15, 15, 17);">ফোন নাম্বারঃ 01711475448</p><p style="text-align: center; box-sizing: inherit; -webkit-font-smoothing: antialiased; margin: 0px; padding: 0px; border: 0px; vertical-align: baseline; font-size: 15px; font-family: SolaimanLipi, Arial, sans-serif; word-break: break-word; overflow-wrap: break-word; color: rgb(192, 192, 192); background-color: rgb(15, 15, 17);">জিমেইলঃ Dainikbanglasomoy@gmail.com</p>
Copyright © 2025 All rights reserved